ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় আইটি সেন্টারে মাহতাব উদ্দিন এর নারীদের হয়রানি,প্রশিক্ষণ শেষে টাকা ফেরত চাইলে পুলিশি হুমকির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ১২:৪৩:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ১২:৪৩:২৭ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় আইটি সেন্টারে মাহতাব উদ্দিন এর নারীদের হয়রানি,প্রশিক্ষণ শেষে টাকা ফেরত চাইলে পুলিশি হুমকির অভিযোগ

​এইচএম মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার :

আইটি প্রশিক্ষণ ও নিশ্চিত কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অগ্রীম জামানত ও একাডেমিক সার্টিফিকে এবং তা পরবর্তীতে তা ফেরত না দিয়ে ভীতি প্রদর্শনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার একটি কথিত আইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন স্থানীয় বহু তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে প্রশিক্ষণ ও কাজের গ্যারান্টি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায়। তবে শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এককালীন 'জামানত' বা ডিপোজিট হিসেবে রেখে দেয়। জামানত নেওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়—প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট মেয়াদের কাজ শেষে বা সার্টিফিকেট প্রদানের সময় এই জামানতের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

​তবে প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট হাতে পেলেও জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নাজেহাল হতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জামানতের টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা তাদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে এবং ভুয়া মামলা ও পুলিশের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ছদ্মনাম ব্যবহারকারী) কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা জানান:

   * ​আফরোজা,নিলা,তিথি  (ছদ্মনাম): সাংবাদিকদের বলেন কুমিল্লা আইটি  ইনিস্টিটিউট প্রশিক্ষণ শেষে জামানতের পুরো টাকা ফেরত পাব। এখন সার্টিফিকেট দেওয়ার পর টাকা চাইতে গেলে তারা আমাকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাচ্ছে এবং ভুয়া আইনি ঝামেলায় ফেলার হুমকি দিচ্ছে।"

   * ​হালিম (ছদ্মনাম): "আমি কষ্ট করে জামানতের টাকা জোগাড় করে জমা দিয়েছিলাম। এখন টাকা ফেরত না দিয়ে তারা উল্টো হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"

   * ​কোহিনুর (ছদ্মনাম): "আইটি খাতে কাজের নামে এটি একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে গ্রাহকের জামানত আটকে রাখা এবং ভয় দেখানোই তাদের মূল ব্যবসায়িক কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বৈধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা আইটি কোম্পানির কাজ বা প্রশিক্ষণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অফেরতযোগ্য 'জামানত' বা ডিপোজিট নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। প্রশিক্ষণ ও চাকরির লোভ দেখিয়ে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। জামানত আটকে রেখে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার সুযোগ বন্ধ করা। 

জামানতের টাকা ফেরত না পেয়ে তরুণ-তরুণীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। টাকা ফেরত চাওয়ায় মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হুমকির মুখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হয়। এ ধরনের প্রতারণার কারণে প্রকৃত ও বৈধ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। 

​এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত উক্ত কথিত আইটি সেন্টারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জেলায় পরিচালিত আইটি ট্রেনিং সেন্টার ও ফার্মগুলোর ট্রেড লাইসেন্স এবং কার্যক্রম বৈধ কি না তা নিয়মিত তদারকি করা। বৈধ ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য তুলে ধরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালানো। 

কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ বা কাজের জন্য জামানত চাইলে শুরুতেই তা প্রত্যাখ্যান করা। ভর্তি বা চুক্তির আগে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যাকগ্রাউন্ড ও পূর্ববর্তী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা। প্রতারণার শিকার হলে চুপ না থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP) বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা। কারিগরি শিক্ষার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা বন্ধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ